‎নামাজের তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করা

আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُشِيرُ بِإِصْبَعِه إِذَا دَعَا وَلَا يُحَرِّكُهَا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ وَزَادَ أَبُوْ دَاوٗدَ وَلَا يُجَاوِزُ بَصَرُ إِشَارَتَه

আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাতে বসা অবস্থায় “কালিমায়ে শাহাদাত” দুআ পাঠ করতেন, নিজের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, কিন্তু তা নাড়াচড়া করতেন না। আবূ দাঊদ এ শব্দগুলোও নকল করেছেন যে, তাঁর দৃষ্টি ইশারা করার বাইরে অতিক্রম করত না। হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ৯৯০, নাসায়ী ১২৭০। মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৯১২।‎

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – كَانَ إِذَا قَعَدَ لِلتَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى، وَالْيُمْنَى عَلَى الْيُمْنَى، وَعَقَدَ ثَلَاثَاً وَخَمْسِينَ، وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا، وَأَشَارَ بِالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃরসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাশাহহুদে (আত্তাহিয়াতু পড়ার জন্য) বসতেন তখন বাম হাত বাম হাঁটুর উপর ও ডান হাত ডান হাটুর উপর রাখতেন এবং (আরাবীয় পদ্ধতিতে) তিল্পান্ন গণনার ন্যায় (ডান) হাতের শাহাদাত ব্যতীত আঙ্গুলগুলোকে গুটিয়ে নিতেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। মুসলিমের ভিন্ন একটি রিওয়ায়াতে রয়েছেঃ আঙ্গুলগুলোকে ভাঁজ করে নিয়ে কেবল বৃদ্ধাঙ্গুলির নিকটতম শাহদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন। মুসলিম ৫৮০, তিরমিয়ী ২৯৪, নাসায়ী ১১৬০ ১১৬৬, ১২৬৭, আবু দাউদ ৯৮৭, ইবনু মাজাহ ৯১৩, আহমাদ ৪৫৬১, মুওয়াত্তা মালেক ১৯৯, দারেমী ১৩৩৯ বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ৩১৩, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস‎

عَنْ مَالِكِ بْنِ نُمَيْرٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاضِعًا ذِرَاعَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى رَافِعًا أُصْبُعَهُ السَّبَّابَةَ قَدْ حَنَاهَا شَيْئًا ‏‏

মালিক ইবনু নুমাইর আল-খুযাঈ (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাতে তাঁর ডান হাত ডান উরুর উপর রেখে শাহাদাত আঙুল অর্ধনমিত অবস্থায় উচিয়ে রাখতে দেখেছি। আবু দাউদ, হাদিস নং ৯৯১

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَعَدَ فِي التَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَعَقَدَ ثَلاَثَةً وَخَمْسِينَ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ ‏

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের মধ্যে ‘তাশাহ্‌হুদ’ পড়তে যখন বসতেন তখন বাঁ হাতটি বাঁ হাঁটুর উপর এবং ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন। আর (হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী) তিপ্পান্ন সংখ্যার মতো করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৯৭ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

হাদীসের তিপ্পান্ন সংখ্যার উদ্দেশ্য বর্ণনায় ‘আবদুল হাক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) বলেন, তার পদ্ধতি হলোঃ ডান হাতের মধ্যমা, অনামিকা ও শেষের কনিষ্ঠাঙ্গুলি- এ তিনটি মুষ্টিবদ্ধ করা হবে; অতঃপর শাহাদাত অঙ্গুলি (তর্জনী) – কে খুলে রেখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা শাহাদাত অঙ্গুলির মাঝ বরাবর ধরা হবে। এ চিত্রটা দেখতে আরবী তিপ্পান্ন (৫৩) – এর মতো হয়। (শারহে মুসলিম- ২১৬ পৃষ্ঠা)

ইমামদের বক্তব্য:

ইমাম নববী রা. তার ফতোয়ায় বলেছেন: ইল্লাল্লাহ এর হামজা উচ্চারণের সময় ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল উঁচিয়ে একবার ইশারা করা মুস্তাহাব। নড়াচড়া করবে না। যদি নড়াচড়া বারবার করে তাহলে মাকরুহ হবে তবে নামাজ নষ্ট হবে না। আবার কেউ বলছেন নামাজ নষ্ট হবে। (আল ফাতোয়া পৃষ্ঠা ৫৪)

ইবনু কুদামা বলেছেন: তাশাহহুদে আল্লাহর স্মরণ করার সময় তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করবে যেরকম আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তাঁর হাদিসে উল্লেখ করেছেন তবে নাড়াচাড়া করবে না। (আল মুগনি ১/৫৩৪)

আর রাওদুল মুরবি (১/৫৯) উল্লেখ আছে, তাশাহহুদে নাড়াচাড়া ব্যতিত তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করবে।

সাইয়েদুনা ওয়ায়েল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে একটি হাদীসে নাড়াচড়ার কথা উল্লেখ আছে। হাদীসটি ইমাম আহমদ, ইবনে খুজাইমা, ইমাম বায়হাকী এবং ইবনে হিব্বান উল্লেখ করেছেন। ইবনে খুজাইমা বলেন, এই হাদিসের বিপরীতে ১১ জন সেকাহ রাবি হাদিস উল্লেখ করেছেন। যেখানে তাঁরা (يحركها) উল্লেখ করেননি। (ইবনে খুজাইমা ১/৩৫৪)

ইমাম বায়হাকী বলেছেন, ইবনে হুজরের হাদিসের মধ্যে নাড়াচড়ার যে কথাটা উল্লেখ আছে সেটা ইশারার জন্য যে একবার নাড়া হয় সেটাই উদ্দেশ্য বারবার বা সর্বদা নাড়া উদ্দেশ্য নয়। (সুনানু বায়হাকি ২/১৩২)

মাওলানা মোহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ বাশারী, ইমাম ও খতিব – উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *